আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ৬৩ শতাংশ আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই দেশে অবস্থান করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের বাইরে রয়েছে।
প্রসিকিউশন জানায়, পলাতক থাকা সত্ত্বেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোট ৭০টি মামলায় আসামির সংখ্যা ৫৫৮ জন, এর মধ্যে ৩৫২ জন পলাতক রয়েছে।
রায়প্রাপ্ত ৭ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৬৮ জনের মধ্যে ৪৮ জন পলাতক। বিচারাধীন ২৬ মামলার ৩২৮ আসামির মধ্যে ২৪৪ জন ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র ৮৪ জন।
পলাতক আসামিদের অধিকাংশই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, এমপি এবং দলীয় নেতা-কর্মী। প্রসিকিউটররা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
প্রসিকিউটর এম এইচ তামিম বলেন, "আমাদের দেশের মানুষ যদি মনে করে যে, অনুপস্থিত অবস্থায় বিচার হবে না, তাহলে অপরাধীরা পালিয়ে যাবে। আমরা নিরপরাধ কাউকেও বিচারের আওতায় আনব এবং অপরাধীদের ছাড় দেব না।"
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির হতে হবে এবং তাদের পছন্দের আইনজীবী দ্বারা মামলা পরিচালনা করা উচিত। রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবীরা আসামির ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন না।
বিদেশে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রংপুরের বেগম রকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি ড. হাসিবুর রশিদসহ কয়েকজন উল্লেখযোগ্য নাম রয়েছে।