সম্প্রতি উয়েফা নেশনস লিগ চলাকালে পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার এই আচরণ পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন ভালোভাবে নেয়নি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
১০ অক্টোবর শনিবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘রোনালদোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’ ফেডারেশন এই ঘটনার গুরুত্বকে জরুরি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত রোনালদো পর্তুগালের সব ধরনের ম্যাচ থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবেন।
রোনালদোর বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ফুটবলেও আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তার সম্ভাব্য শাস্তির ধরন বা মেয়াদ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এর আগে, তিনি নিজের প্রকাশ্য বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন এবং শাস্তির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
রোনালদোর সাময়িক নিষেধাজ্ঞার অর্থ এই নয় যে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারিত হয়ে গেছে। তদন্ত শেষে ফেডারেশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ধারণা করা হচ্ছে, সাময়িক শাস্তির পরিমাণ রোনালদোর দলে ভূমিকা এবং ক্যারিয়ারের সার্বিক চিত্রের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে।
রোনালদো ক্যারিয়ারের একাধিকবার শাস্তির মুখে পড়েছেন এবং সেসময় শাস্তির পরিমাণ কমার নজিরও রয়েছে। তিনি মাঠে ফিরে লাল-সবুজ জার্সিতে গোল করে দেশকে আনন্দে ভাসিয়েছেন।
রোনালদোর আগমনের পূর্বে পর্তুগাল ২৮টি গ্লোবাল ও কন্টিনেন্টাল আসরের মধ্যে মাত্র ৬ বার অংশগ্রহণ করেছিল। তার অধীনে দলটি ইউরোপসেরার মুকুট এবং দুইটি উয়েফা নেশনস লিগের ট্রফি জিতেছে।
চলমান বিতর্কের মধ্যেই শুক্রবার ক্লাব ফুটবলে ফিরেছেন রোনালদো। সৌদি প্রো লিগে আল দিরিয়াহর বিপক্ষে আল নাসরের ৩-০ গোলের জয়ে প্রথম গোলটি করেন তিনি, যা তার পেশাদার ক্যারিয়ারের ৯৮০তম গোল।
যদিও রোনালদো সম্প্রতি বলেছেন যে তিনি দ্রুত জাতীয় দল থেকে অবসরে যাচ্ছেন না। বয়স ৪১, তবে তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া, তাই নিজ দেশের জার্সিতে আরও কিছুদিন ক্যারিয়ার রাঙাতে চাইবেন।