নিউ ইয়র্কে মঙ্গলবার, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (UNGA) সাইডলাইনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমানের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সাত মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বারবার মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে, তাদের তেল ও গ্যাস রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে।
একটি জুন মাসের সমঝোতা স্মারক যুদ্ধের অবসানের আশা জাগালেও, গত মাসে এটি ভেঙে পড়ে। ট্রাম্পের কাছে একটি "বড় সিদ্ধান্ত" নেওয়ার চাপ রয়েছে এবং তিনি GCC নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে চান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈঠকে দুটি আন্তঃসংযুক্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি সমর্থিত সরকারের সংঘাত।
GCC দেশগুলোর সাধারণ লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং উত্তেজনা কমানো। গবেষক লুচিয়ানো জাকারার মতে, এই বৈঠকে GCC দেশগুলো ট্রাম্পকে তাদের উদ্বেগ জানাতে পারে।
বিশেষজ্ঞ জর্জিও কাফিয়ের জানান, GCC দেশগুলো ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করবে। তারা একটি নতুন সমঝোতার জন্য আলোচনা করতে পারে, যা সংকট কমানোর পথ দেখাবে।
যদিও GCC দেশগুলোর মধ্যে সাধারণ লক্ষ্য রয়েছে, তাদের মধ্যে যুদ্ধের ফলাফলে পার্থক্য রয়েছে। কাতার যেমন স্ট্রেইট অফ হরমুজের উপর নির্ভরশীল, তেমনি সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জাসিম আল থানি বলেন, যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে তিনি "ভূমিকম্প" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সৌদি আরবও হুথিদের বিরুদ্ধে চাপের মধ্যে রয়েছে এবং তারা মার্কিন হামলার জন্য লবিং বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈঠক থেকে বড় কোনো breakthrough আশা করা যাচ্ছে না, তবে একটি সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।