প্রয়াত সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর স্মরণে ভারতের আসামজুড়ে পালিত হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘জুবিন দিবস’।
আজ গায়ককে হারানোর দিনে সোনাপুরের জুবিন ক্ষেত্ৰ (সমাধিস্থল) পরিণত হয়েছে শোক, শ্রদ্ধা ও স্মৃতির এক মহাতীর্থে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত প্রয়াত শিল্পীর সমাধিস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
ফুলের মালা, গামছা ও বর্ণিল সাজসজ্জায় সজ্জিত জুবিন ক্ষেত্রে আজ আবেগের ঢেউ। শিল্পীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নাম-প্রসঙ্গ, হরিনাম, দিহানাম, বৈদিক প্রার্থনা ও জিকির। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত এই অংশগ্রহণ জুবিনের মানবতা, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তাকে ফের নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
গুয়াহাটি শহরজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত নানা কর্মসূচি উপলক্ষে অস্থায়ী প্যান্ডেল, সাংস্কৃতিক মঞ্চ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জুবিনের সমাধিস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া। তিনি জানান, জুবিন এখনও তাঁকে ঘিরে থাকেন, জীবনের কঠিন মুহূর্তে শক্তি ও পরামর্শ দেন।
গরিমার কথায়, ‘যাঁর সঙ্গেই দেখা হয়, সকলের কাছে জুবিনকে ঘিরে কোনও না কোনও গল্প জমে রয়েছে। আমার সঙ্গে তাঁরা তা ভাগ করে নিতে চান।’
জুবিনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বলিউড সুরকার ও গায়ক সেলিম মার্চেন্ট। তিনি বলেন, ‘জুবিনের সংগীত ও সৃষ্টিকর্ম আগামী প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে থাকবে।’
এ ছাড়া জুবিন ক্ষেত্ৰে প্রস্তাবিত গ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনাকেও তিনি স্বাগত জানান। জুবিনের দীর্ঘদিনের মঞ্চসঙ্গী জুবলী বড়ুয়া সামাজিকমাধ্যমে লিখেছেন, ‘অসীম ভালোবাসার মধ্যেই গোল্ডিদা চিরকাল বেঁচে থাকবে। জুবিন দিবস যেন এক সৎ, ন্যায়ভিত্তিক, মুক্ত ও মানবিক আসাম গড়ার নতুন পথের সূচনা হয়।’