সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তির আওতায়, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে চুক্তি হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সৌদিতে হামলা শুরু করেছে ইয়েমেনের ইরানপন্থীরা।
এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ইসরায়েলের কাছে সাহায্য চেয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এ বিষয়ে সৌদি আরব এবং ইসরায়েলের মধ্যে গোয়েন্দা ও সামরিক তথ্য বিনিময়ের আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে, সৌদির নিরাপত্তার জন্য ইরানপন্থীদের অবস্থান ও হামলার তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
মক্কা চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদার করা। কিন্তু চুক্তির সামরিক কাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। আগস্টের শেষ দিকে, তিন দেশ যৌথ কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে, তবে এই কাঠামো কার্যকর হওয়ার আগে সৌদি আরবের ওপর হামলার সংখ্যা বাড়ছে।
তুরস্ক এবং পাকিস্তান, মক্কা চুক্তির অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও, ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে রাজি নয়। পাকিস্তান জানিয়েছে, চুক্তির কাঠামো এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি এবং তারা সৌদির পাশে আছে, তবে সরাসরি হামলার সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।
সৌদি আরবের জন্য ইসরায়েল একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যদিও সৌদি আরব এবং ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তবুও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, পাকিস্তান এবং মিসরের কাছ থেকেও সহায়তা চাইছে।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন এখন সৌদি আরবের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইরানপন্থীদের হামলা এবং সামরিক কাঠামোর অভাবের কারণে সৌদি আরব দ্রুত সহায়তা খুঁজছে।
সৌদি আরবের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, মক্কা চুক্তির অংশীদার দেশগুলো কত দ্রুত এবং কী ধরনের সহায়তা নিয়ে সামনে আসে। এই সংকটের প্রেক্ষাপটে, সৌদি আরবের জন্য ইসরায়েলসহ অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভর করা একটি দ্রুত বিকল্প হতে পারে।