অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মানবাধিকার এবং নৈতিকতার প্রতি অবহেলা করছে বলে দাবি করেছেন বিশ্লেষকরা। স্পেনের সিউটা ছিটমহলে শরণার্থীদের ঢল এই সংকটের নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ইইউর নীতির ভণ্ডামি প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপ দীর্ঘকাল ধরে আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করে এসেছে, কিন্তু আফ্রিকার অর্থনীতির উন্নয়নে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং, ইউরোপীয় দেশগুলো উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোকে নিজেদের সীমান্ত রক্ষার জন্য বাফার স্টেট হিসেবে ব্যবহার করছে।
স্পেনের শরণার্থী সংকটটি নিছক একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর পরিকল্পিত কৌশল। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরোধিতা করে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরাগভাজন হয়েছেন, যা এই সংকটের পেছনে একটি কারণ হতে পারে।
বিশ্লেষকরা অভিযোগ করেছেন যে, রক্ষণশীল পশ্চিমা সরকারগুলো স্পেনের নৈতিক অবস্থানকে দমন করতে শরণার্থী সংকটকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। মরক্কোর চাপের কারণে স্পেন যখন সীমান্ত সংকটে পড়েছে, তখন ইইউ নেতারা রাজনৈতিকভাবে মাদ্রিদকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।
ইতালি ও ডেনমার্কের মতো দেশগুলো স্পেনের সঙ্গে অবাধ চলাচলের শেনগেন চুক্তি স্থগিত করেছে, যা স্পেনের দুর্দিনে সহায়তার পরিবর্তে সংহতি প্রকাশের অভাবকে নির্দেশ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন শরণার্থী সংকটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, মানবাধিকারের স্লোগান আড়ালে রেখে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারেই ব্যস্ত রয়েছে ইইউ নেতারা।