যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কির নেতৃত্বের জন্য এটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৮ আগস্ট ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভ বলেন, 'গণতন্ত্রকে রাশিয়ার কাছে জিম্মি করা যাবে না। ইউক্রেন ঠিক এ কারণেই লড়াই করছে, কারণ তারা একটি স্বাধীন ইউরোপীয় রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে চায়।'
রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি রয়েছে, যার ফলে দেশটিতে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। ভিডিওতে ফেদোরভ সরাসরি জেলেনস্কির নাম উল্লেখ করেননি, তবে জুলাইয়ের শেষ দিকে অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
ফেদোরভের বরখাস্তের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ দেখা দেয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা এবং সামরিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি প্রশংসিত হন।
এদিকে, ফেদোরভের বরখাস্তের পেছনে সেনাবাহিনীর প্রধান কমান্ডার ওলেক্সান্ডার সিরস্কির সঙ্গে উত্তেজনাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিরস্কিকেও কয়েক সপ্তাহ পর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ফেদোরভ ইউটিউবে বলেন, ইউক্রেন বর্তমানে 'শাসনব্যবস্থার একটি পদ্ধতিগত সংকটের' মুখোমুখি। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এমন বিষয়গুলোর মধ্যে ইউক্রেনের দুর্নীতিও রয়েছে।
ফেদোরভের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ইঙ্গিত নেই, তবে তিনি একটি 'আইনসম্মত, নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা' প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।
ফেদোরভ ইউক্রেনের ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার হামলার জন্য 'আইটি আর্মি অব ইউক্রেন' গড়ে তোলেন। এছাড়া, 'আর্মি অব ড্রোনস' নামে সফল তহবিল সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি ড্রোন ও উচ্চপ্রযুক্তির যুদ্ধকৌশলে গুরুত্ব দিয়েছেন। বরখাস্ত হওয়ার পর ফেসবুকে নিজের অর্জনগুলোর কথা তুলে ধরেন।