রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া দল ৪৫০ আসনের ৩৫৫টি আসন পেয়ে একটি বিশাল জয় লাভ করেছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর মস্কো থেকে জানানো হয়েছে, এটি ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের সিদ্ধান্তের প্রতি জনসমর্থনের একটি প্রমাণ।
নির্বাচনের সময় ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি তীব্র ছিল। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধের অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়। রাশিয়া নতুন ধরনের জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করছে এবং ইউক্রেনও রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে।
পুতিন নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, এই ফলাফল রুশ জনগণের যুদ্ধরত সেনাদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করবে। ফলাফল অনুযায়ী, ইউনাইটেড রাশিয়া ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা ২০২১ সালের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
তবে অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এই নির্বাচনের স্বাভাবিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। রাশিয়ার একমাত্র বড় যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াব্লোকো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি, এবং অনেক যুদ্ধবিরোধী রাজনীতিক জেলে বা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।
এরপরও, নির্বাচনের ফলাফল পুতিনের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এখন পার্লামেন্টে তার নীতির বিরুদ্ধে বিরোধিতার চাপ কমিয়ে দিতে পারেন। তবে, ভোটের মাধ্যমে যুদ্ধের পক্ষে জনসমর্থনের সরাসরি সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত নয়। ভোটাররা বিভিন্ন কারণে ইউনাইটেড রাশিয়াকে ভোট দিতে পারেন।
রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ৪০টি আসন পেয়েছে, তবে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেনি। রয়টার্সের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, পুতিন এই ফলকে তার নীতি ও যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, তবে যুদ্ধের খরচ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
সার্বিকভাবে, পুতিনের দল নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে এবং এটি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। কিন্তু ভোটের ফলাফল যুদ্ধের পক্ষে গণভোট হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়, কারণ বিরোধীদের জন্য সুযোগ সীমিত ছিল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ অনুপস্থিত ছিল।