সামরিক ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ। তিনি জানান, সামরিক সংঘাতে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
আরেফ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে চাপ সৃষ্টি করছে, তাকে তিনি ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের ময়দানে যেভাবে ইরান প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, একইভাবে এই অর্থনৈতিক যুদ্ধও মোকাবিলা করে জয়ী হবে তেহরান।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের এই টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘দুষ্ট’ দেশ আখ্যা দিয়ে চলমান সংঘাতের কারণে আমেরিকানদের জ্বালানির বাড়তি দাম মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, ‘এই প্রণালি কখন খুলবে বা বন্ধ হবে, তা শুধু ইরানের নির্দেশেই নির্ধারিত হবে।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে বিশ্বের মোট তেল রফতানির প্রতি পাঁচ ব্যারেলের একটি এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাব্য হুমকির কথা বারবারই উল্লেখ করা হচ্ছে, তবে জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে।