ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।
সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। লোহিত সাগরের তীরে বন্দরনগরী আল-মোচায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুবার হামলা হয়েছে। এই হামলাগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আক্রমণের পরিধি বৃদ্ধি করেছে।
এর আগে আল-মোচায় পৃথক হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়। হামলায় জড়িত ১১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। হামলায় শহরের অভ্যন্তরে বেসামরিক স্থাপনা, বিদ্যুৎ ও সামরিক অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা সরকারি বাহিনীর জন্য বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হয়েছে এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার পাল্টা সামরিক অভিযানে নেমেছে। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, হুথিদের ঘাঁটি এবং রসদ সরবরাহ লাইন লক্ষ্য করে অভিযান চলছে।
গত ৬ আগস্ট হুথিরা মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, সরকারি বাহিনী ওই এলাকায় সামরিক অবকাঠামো তৈরির চেষ্টা করছিল।
যদিও ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর দেশটিতে বড় ধরনের লড়াই কমে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের সামরিক প্রস্তুতি এবং উত্তেজনা আবার বেড়েছে। মারিব ও হাদরামাউত এখন সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
সৌদি-সমর্থিত সরকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, হুথিদের যেকোনো হামলার জবাব দেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমিত পাল্টাপাল্টি হামলা কি আবারও ইয়েমেনকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ঠেলে দেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।