সরকারের পক্ষ থেকে এসেনশিয়াল ড্রাগস লিস্ট-২০২৬ ও ড্রাগ প্রাইস ডিটারমিনেশন মেথড-২০২৬ বাতিলের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স (এনএইচএ)। সংগঠনটি রোগীবান্ধব জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়নের আহ্বান জানায়।
শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে এনএইচএর আহ্বায়ক অধ্যাপক শাদরুল আলম ও সদস্যসচিব মো. আব্দুল আহাদ এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, স্বাস্থ্য কোনো বিলাসিতা নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ দুর্বল বা বাতিল করা হলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগী এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নেতারা সতর্ক করেন যে, বাজারের ওপর ১৮০টি প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব ছেড়ে দিলে এসব ওষুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
তারা আরও বলেন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, হৃদরোগ, অ্যাজমা, কিডনি রোগসহ দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। এসব ওষুধের দাম বেড়ে গেলে লাখো রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা; কোনোভাবেই ওষুধের বাজারকে অনিয়ন্ত্রিত মুনাফার সুযোগ করে দেওয়া উচিত নয়।
ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স সরকারের প্রতি অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি প্রয়োজনীয় ওষুধের কার্যকর মূল্যনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবি জানায় এবং হুঁশিয়ারি দেয় যে, এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।