বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর: রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা বনাম বাস্তবতা

জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পর রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতার মধ্যে ফারাক স্পষ্ট।

জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর: রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা বনাম বাস্তবতা

কোটাবিরোধী আন্দোলনের ইতি ঘটেছে রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। তবে গতানুগতিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সেই প্রত্যাশা অনেকটাই ফিকে হয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্দলীয় জুলাই যোদ্ধারা। অভ্যুত্থান-পরবর্তী দুই বছরের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, আমূল পরিবর্তনের জন্য এই সময়টা যথেষ্ট নয়।

জুলাই-পরবর্তী যে রাজনৈতিক বোধোদয়ের আশা করা হয়েছিল, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তার কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। নিহত নাফিসের মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি প্রতিনিয়ত ছেলে হারানোর কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছেন। নাফিসের ঝুলে থাকা শরীরের ছবি এখনও তার চোখে জ্বলজ্বলে।

নাফিসের মা বলেন, 'ছেলে আমাকে বলতেন, দেশ পরিবর্তন করতে হলে কাউকে না কাউকে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।' তিনি আশা করেছিলেন বিজয়ের পর রাষ্ট্রকাঠামোয় পরিবর্তন আসবে। কিন্তু দুই বছর পরেও নাফিসের পড়ার টেবিল আগের মতোই সাজানো আছে।

নাফিসের মা আরও বলেন, 'কারে ফাঁসি দিছে? যে দেশে নেই। যারা দেশে আছে, কী দিলো তিন বছর-পাঁচ বছর? একটা স্বজন হারানো মানুষে একটা বিচার দেখলো?' এই প্রশ্নটি সমাজে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

জুলাই আন্দোলনের সময় উত্তরা ছিল মূলত ছাত্র-জনতার নিয়ন্ত্রণে। অভ্যুত্থানের শেষ দিন ৫ আগস্ট সকালে আশপাশের অলিগলিতে জনতার ঢল এসে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এই জনসমুদ্রে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ শুধু গণহত্যার বিরুদ্ধেই ছিল না, বরং রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের প্রত্যাশাও ছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দীন খান মনে করেন, এত অল্প সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আশা করাটা সমীচীন নয়। তবে যে শুরুটা হতে পারত, তার দেখা এখনও মিলছে না। তিনি বলেন, 'অল্প সময়ে তো আসলে এতদিনের জঞ্জাল দূর করা যাবে না।'

তিনি আরও বলেন, '৫ আগস্টকে যদি আমরা একটা রাজনৈতিক শিক্ষা হিসেবে না নিই, তাহলে আগের দুঃখ-কষ্টই ফিরে আসবে।' রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেলেও সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তার কোনো প্রভাব নেই।

বিজ্ঞাপন