স্পেনের উত্তর আফ্রিকার সিউটায় সম্প্রতি ৬০,০০০ অভিবাসীর ঢলে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্প্যানিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ অভিবাসী ইতোমধ্যে স্বেচ্ছায় মরক্কো ফিরে গেছেন।
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস শুক্রবার রাত ১০টায় সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, "প্রায় সকলেই সিউটায় প্রবেশের পর আবার মরক্কোতে ফিরে গেছেন।" সিউটায় প্রবেশের সময় কিছু অভিবাসী ডুবে গেছেন এবং কিছু ক্রমবর্ধমান সীমানা প্রাচীরের উপর চাপা পড়ে মারা গেছেন।
এই অভিবাসীর ঢল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সরকারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে শেঙ্গেন অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেইন এ ঘটনাকে "অগ্রহণযোগ্য" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ফরাসি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, ফ্রান্স স্পেনের সাথে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করবে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি স্পেনের সাথে খোলামেলা সীমান্ত চুক্তি স্থগিত করার হুমকি দিয়েছেন।
স্পেনের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ৫০,০০০ লোক সীমান্ত পার করেছে এবং শুক্রবার বিকেল ৪টার মধ্যে ৪৮,৩০০ জন ফিরে গেছে। সিউটায় স্থানীয় সরকারের প্রধান হুয়ান জেসাস ভিভাস জানান, বেশিরভাগ অভিবাসী সিউটায় প্রবেশের চেষ্টা করেছেন।
স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, অভিবাসীদের ঢল স্পেনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। তিনি সীমানা প্রাচীরের পাশে একটি বাধা স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন।
মরক্কোর পুলিশ শুক্রবার রাতে সীমান্তে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করে। এক তরুণ মরক্কোর নাগরিক জানিয়েছেন, "আমি জানি না কেন এসেছিলাম, এখন আমি ফিরে যাচ্ছি।"
সিউটা এবং মেলিলা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকার একমাত্র স্থল সীমান্ত। অভিবাসীরা প্রায়শই মরক্কোর ফনিদক থেকে সাঁতার কেটে সিউটায় প্রবেশের চেষ্টা করে।
সিউটায় প্রবেশের চেষ্টা বাড়ানোর পেছনে একটি স্প্যানিশ সুপ্রিম কোর্টের রায়কে দায়ী করা হচ্ছে, যা সমুদ্রপথে প্রবেশ করা অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর অনুমতি দেয়নি। তবে মরক্কোর অ্যাক্টিভিস্টরা এই রায়ের উপর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, কারণ বেশিরভাগ অভিবাসী এ ধরনের আইনি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অজ্ঞ।