২০২৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। ম্যাচ কমিশনারের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১৫ জুলাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলে বিজয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও জিওভানি লো সেলসো একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন, যেখানে লেখা ছিল 'Las Malvinas son Argentinas'। এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং দেশটির সরকার ফিফার কাছে তদন্তের দাবি জানায়।
ফিফার মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি বিষয়টি মূল্যায়ন করছে। ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী, রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় ও জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে, আর্জেন্টিনা আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে অংশ নেবে। মার্টিনেজ বলেন, "আমরা আর্জেন্টিনার জনগণকে হতাশ করতে পারতাম না।"
যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল এই ঘটনার জন্য পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "রাজনীতি ও ফুটবলকে আলাদা রাখতে হবে।"
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই খেলোয়াড়দের কর্মকাণ্ডকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, "এটি সব আর্জেন্টাইন নাগরিকের অনুভূতির প্রতিফলন।"
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিরোধ বহু পুরোনো। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়।
আগে এ ধরনের ঘটনায় আর্জেন্টিনাকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ২০১৪ বিশ্বকাপে একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে জরিমানা করা হয়েছিল।