ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া-না নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংসদের প্রথম দিন থেকেই সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত সোমবার, সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়। বিরোধী দলকে কমিটিতে নাম দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করে এবং সংসদ থেকে ওয়াক আউট করে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক বিতর্ক থাকবেই, তবে সাংবিধানিক নির্দেশনা মানতে সংসদ বাধ্য। তারা সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সংশোধনের পক্ষে।
বাংলাদেশ আইন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খান বলেন, "গণভোট করার সুযোগ আছে কিনা, এই প্রশ্নটি আসবে। কারণ, আমাদের সংবিধানে গণভোটের অস্তিত্ব ছিল না।" তিনি সতর্ক করেন যে, বিতর্কের কারণে সংশোধনীগুলো আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, সংবিধান বিশেষজ্ঞ কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, "সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী যেভাবে ছিল, সেভাবেই এখন সংবিধান রয়েছে।" তিনি জানান, রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে।
৮ম সংশোধনী অনুযায়ী, সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন করা যাবে না। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংশোধন হলে এর ভবিষ্যৎ প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, "সংশোধনীগুলো আদালতে নিয়ে আসা হচ্ছে, তবে আদালত যাতে হস্তক্ষেপ না করে, তার জন্য একটি শক্ত যুক্তি থাকতে হবে।" তারা বলেন, সংবিধান আইনি দলিল হলেও রাজনীতির সাথে জড়িত, তাই এর ভবিষ্যৎ সংশোধনীর গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করবে।