পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ বেলুচিস্তান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছে বলে দাবি করেছেন মীর ইয়ার বালুচ নামের এক ব্যক্তি। তিনি এক্স হ্যান্ডলে জানান, বেলুচিস্তানের ৮৫ শতাংশ অঞ্চল ইতিমধ্যে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এছাড়া, বেলুচিস্তান নিজেদের জাতীয় সংগীত ‘মা চুকাইন বালুচানি’ এবং জাতীয় পতাকা গ্রহণ করেছে। তারা ‘বালুচি ফালুস’ নামে একটি নিজস্ব মুদ্রার প্রচলনও শুরু করেছে। বেলুচিস্তানের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফাস্টপোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোস্টে ভারতের নাগরিকদের, বিশেষ করে গণমাধ্যম, ইউটিউবার ও বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা বালুচদের পাকিস্তানের মানুষ বলে সম্বোধন না করেন।
বেলুচিস্তান পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এবং দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৪৪ শতাংশ। তবে এখানে বাস করে মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ। এই প্রদেশটির সীমান্ত রয়েছে ইরান ও তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানের সাথে।
১৯৪৮ সালে কালাত রাজ্যকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকেই বেলুচিস্তান বিদ্রোহে জর্জরিত। বালুচ জনগণের অভিযোগ, তারা বছরের পর বছর ধরে অর্থনৈতিক বঞ্চনা, রাজনৈতিক বর্জন ও সামরিক নিপীড়নের শিকার।
চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিসি) বেলুচিস্তানের অসন্তোষের একটি বড় কারণ। এই প্রকল্পের অধীনে গদরের গভীর সমুদ্র বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ।
বেলুচিস্তান ভারতের কাছে স্বীকৃতি চেয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বেলুচিস্তানকে স্বীকৃতি দিলে তা পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হবে। এর ফলে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তান ভারতকে আবারও আন্তর্জাতিক মহলে কোণঠাসা করার সুযোগ পাবে।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর চীন ও ভারতের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বেলুচিস্তানকে সমর্থন দিলে বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্ক আবারও খারাপ হতে পারে, যা ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।