১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও নিয়োগের সুপারিশ না পাওয়া প্রার্থীরা বিষয়ভিত্তিক শতভাগ শূন্যপদ যুক্ত করে দ্রুত নতুন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তারা সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন শিক্ষক নিবন্ধনের সার্কুলার প্রকাশ না করারও আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তুলে ধরেন ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ ও সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা। বক্তারা জানান, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক—তিন ধাপেই উত্তীর্ণ হয়েও তারা সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ পাননি।
তারা অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালের বিধিমালা অনুযায়ী শূন্যপদের বিপরীতে প্রায় ৬০ হাজারের বেশি প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ করা হলেও পরবর্তী গণবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়ভিত্তিক সব শূন্যপদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর ফলে অনেক যোগ্য প্রার্থী টানা দুই দফা সুপারিশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
প্রার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এনটিআরসিএ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এতে অনেকেই সামাজিক ও পারিবারিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন।
গত এপ্রিলে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচির সময় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়। সেসময় মন্ত্রী তাদের দাবি যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন এবং এনটিআরসিএকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
তবে সম্প্রতি কলেজ পর্যায়ের ৭৫ শতাংশ পদ সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেন। দাবি, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বিপুলসংখ্যক উত্তীর্ণ প্রার্থী আবারও নিয়োগবঞ্চিত হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি জানানো হয়: ই-রিকুইজিশনের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক শতভাগ শূন্যপদ যুক্ত করে দ্রুত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, যেসব বিষয়ে বঞ্চিত প্রার্থীর সংখ্যা শূন্যপদের চেয়ে বেশি, সেসব বিষয়ে তাদের নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি স্থগিত রাখা এবং চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ সব সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক, স্কুল পর্যায়-২ ও প্রভাষক পদে নিয়োগ নিশ্চিত করা।
দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তারা।