টানা ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন—এই তিনটি পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যা ও পাহাড়ধসের ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন এবং তার টিমের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
গতকাল প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি জনগণের পাশে থাকার এবং তাদের সহায়তা করার বিষয়ে নির্দেশনা দেন। আগামীকাল তিনি দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
সরকার ইতোমধ্যে দুই কোটি টাকারও বেশি অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ডকে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও পূর্ণ উদ্যমে কাজ করছে। পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সরকারি দপ্তরগুলোকে দ্রুত সড়ক ও রেলপথ সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মাহদী আমিন জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির নেতারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জনগণের সুরক্ষায় কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ ও খাদ্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে।