শেয়ারবাজারে দুর্নীতি ও অনিয়মের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনালও শিগগির সক্রিয় করা হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে পুঁজিবাজার সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে কারসাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ বছরের পর বছর ঝুলে থাকায় অপরাধীরা উৎসাহিত হয় এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
মাসুদ খান জানান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিভিন্ন সময়ে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা আদালতে আটকে যায়। অতীতে কমিশন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হলেও ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী পুঁজি হারান। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মাসুদ খান আরও জানান, বাজার তদারকিতে চালু করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা। পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের রিপোর্টিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হবে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন উৎপাদন বা ব্যবসা বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়াও আরও সহজ করা হবে।
শিগগিরই ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারে ডে নেটিং সুবিধা চালু হবে। এতে বিনিয়োগকারীরা একই দিনে এসব শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ পাবেন। বাজারে তারল্য বাড়াতে মার্জিন ঋণের শর্তও শিথিল করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।