মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজে বাধা, শোকের ছায়া

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজে বাধা, শোকের ছায়া।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজে বাধা, শোকের ছায়া

ভূমিকম্পের তীব্রতা কমলেও ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও লা গুয়াইরার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জন এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সরকারি সাহায্য ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ৩৯ সেকেন্ডের তাণ্ডবে রাজধানী ও বন্দরের এলাকা তছনছ হয়ে গেছে, যার ক্ষত এখনও ভেনেজুয়েলাবাসী বহন করছে। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো প্রাথমিক ধকল কাটিয়ে উঠলেও ভূমিকম্পের ভয়াবহ স্মৃতি তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

ভূমিকম্পের পর অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা সুজানা সাভেদ্রা জানান, তিনি চারতলা একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। ভূমিকম্প শুরুর ঠিক কয়েক সেকেন্ড আগে তিনি শোবার ঘর থেকে বসার ঘরে চলে যান। পিলারের নিচে দাঁড়িয়ে রান্নাঘর ও শোবার ঘর ধসে পড়তে দেখেন।

সুজানা বলেন, "আমি ভাগ্যবান যে এখনও বেঁচে আছি। জাগতিক জিনিসপত্র ফিরে পাওয়া যাবে, কিন্তু এই জীবন একবার চলে গেলে আর ফিরে পাব না।" গত বছর সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়া সুজানা তার সবকিছু হারিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু ভবনকে বসবাসের জন্য অনিরাপদ ঘোষণা করেছে, ফলে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকায় উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও জীবিতদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে আধুনিক সরঞ্জামের অভাব এবং পর্যাপ্ত সরকারি সহযোগিতার অভাবে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১০০টিরও বেশি ভবন ধসে পড়েছে এবং সরকারি ও বেসরকারি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ পুনর্গঠনের ব্যয় এখনও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি, তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভূমিকম্পে দেশটির জিডিপির প্রায় ১ থেকে ৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন