যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানগুলোর পর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সাইবার হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইসরায়েলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেটের মহাপরিচালক ইয়োসি কারাদি জানান, গত এক বছরে হামলার সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
সোমবার জার্মান সংবাদপত্র ডি ভেল্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কারাদি বলেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় প্রায় এক হাজার ৬শ'টি সাইবার হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল, যা ২০২৬ সালের জুনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় চার হাজার ৮শ'তে।
তিনি বলেন, ইরান-সমর্থিত কিছু হ্যাকার গোষ্ঠী অত্যন্ত দক্ষ এবং তাদের হামলা মোকাবিলা সম্ভব হলেও এই হুমকিগুলোকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। সাইবার জগতে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই, তাই হামলার আশঙ্কা সবসময় থেকেই যায়।
সাম্প্রতিক হামলাগুলোর লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরকারি সংস্থা, ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিক। বিশেষ করে আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ও হিসাবরক্ষণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও হামলার শিকার হয়েছে।
ইসরায়েল দাবি করেছে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর পরিচালিত সব হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা দুর্বল হওয়ার কারণে তাদের কম্পিউটার সিস্টেম পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান সাইবার হামলার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং নিজেদের সাইবার হামলার শিকার হওয়ার খবর প্রকাশ করে। গত ফেব্রুয়ারিতে, ইসরায়েলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেট সতর্কবার্তা দিয়ে জানায়, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্য করে জটিল সাইবার হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়োসি কারাদি জানান, সাইবার নিরাপত্তায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন মিত্র দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা এখনও শক্তিশালী এবং সম্প্রতি জার্মানিতে স্থায়ী সাইবার যোগাযোগ কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে একটি চুক্তি করেছে ইসরায়েল।