ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থবিল পাশের মাধ্যমে কর ও শুল্কসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজেটের লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে সরকারকে। প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছিল, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
অনেকে মনে করছেন, করযোগ্য আয় না থাকা সত্ত্বেও রিটার্ন জমা দিতে বাধ্য হওয়ার কারণে ব্যাংক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে সরকার এই প্রস্তাব থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, 'এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না, যেখানে মানুষ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে নিরুৎসাহিত হয়।'
প্রস্তাবিত বাজেটে খোসাসহ কাঁচা কাজুবাদাম আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে মোট করের হার প্রায় ৪০ শতাংশে উন্নীত হয়। এতে দেশীয় প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এছাড়া বিজ্ঞাপনী সংস্থার উৎসে কর, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এজেন্সি, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশ কর, এবং তৈরি পোশাক খাতের উৎসে করসহ কয়েকটি বিষয়ে সংশোধনের আলোচনা চলছে। সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, 'যারা খুচরা ব্যবসায়ী কর চাপাতে চাইলে তা পাস করে দিতে পারে।'
সংশ্লিষ্টদের মতে, এবার করজাল সম্প্রসারণের লক্ষ্য ঠিক রেখে বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে নীতি গ্রহণ করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বাজেটে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ খুবই কম, তবে কিছু বিষয়ে সংশোধন আনা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।