লেবাননে ইসরায়েলি হামলার ফলে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। শনিবার (২০ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, চলমান ইসরায়েলি হামলার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, যার কারণে হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের জাহাজের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
সব জাহাজকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, 'হরমুজের কাছে আসবেন না, নাহলে আপনার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।'
ইরানের সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসানে স্বাক্ষরিত সমঝোতার প্রথম ধারা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, চুক্তি না মানলে তাদের পাল্টা পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি, যা যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত করতো। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ কঠোর করে।
চলতি সপ্তাহে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। তবে ইরানের দাবি, যুদ্ধ অবসানের জন্য স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত ছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন এই উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে।