শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
খেলাধুলা

মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের দুই দশকের সাফল্যের গল্প

লিওনেল মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের সাফল্য ও পরিবর্তনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের দুই দশকের সাফল্যের গল্প

ফিফা বিশ্বকাপে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে পারলে, লিওনেল মেসি আবারও সেই সাফল্যের কেন্দ্রে থাকবেন। ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন, যা তাকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও গুইলার্মো ওচোয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডে পৌঁছে দেবে।

২০০৩ সালে বার্সেলোনায় অভিষেকের পর থেকে মেসির খেলার ধরনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তিনি শুধুমাত্র একজন তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাননি, বরং সময়ের সাথে সাথে নিজের খেলার ধরনকে পরিবর্তন করেছেন। সাধারণত খেলোয়াড়রা সময়ের সাথে ফর্ম হারান, কিন্তু মেসি নিজেকে নতুনভাবে তৈরি করেছেন এবং খেলার মধ্যে আধিপত্য বজায় রেখেছেন।

১৬ বছর বয়সে হোসে মরিনহোর পোর্তোর বিপক্ষে খেলার সময় মেসি ডান প্রান্তে খেলতেন। তখন থেকেই তার প্রতিভা সকলের নজরে আসে। পরবর্তীতে, ২০০৫ সালে জুভেন্টাসের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তিনি বিশ্বকে চমকে দেন। ২০০৮ সালে পেপ গার্দিওলা মেসিকে উইংয়ে আটকে না রেখে মাঝমাঠে এনে ফলস নাইন ভূমিকায় খেলানো শুরু করেন।

২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে মেসি ৬৯টি লা লিগা ম্যাচে ৯৬ গোল করেন। তবে ২০১৫ সালে জাভি ও ২০১৮ সালে ইনিয়েস্তা বার্সেলোনা ছাড়ার পর মেসিকে পুরো দলের চালিকাশক্তি হতে হয়। তিনি ফলস নাইন থেকে নিচে নেমে প্লেমেকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা তার গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা বাড়ায়।

২০১১ সালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হওয়ার পর মেসির জীবন নাটকীয় মোড় নেয়। তিনি একের পর এক হতাশার মুখোমুখি হন, যার মধ্যে ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হার এবং ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে পরাজয় উল্লেখযোগ্য। ২০১৬ সালে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেও পরে ফিরে আসেন, কিন্তু তখন তিনি নতুন এক আক্রমণাত্মক নেতা হয়ে ওঠেন।

২০২১ কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ২৮ বছরের শিরোপাখরা কাটায়, যা মেসির জন্য মুক্তির অনুভূতি নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স ছিল মহাকাব্যিক। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে তার অসাধারণ খেলা এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে নিখুঁত পাস ও চাপের মুহূর্তে পেনাল্টি নেওয়া তার অভিজ্ঞ প্লেমেকারের পরিচয় তুলে ধরে।

বর্তমানে, ইন্টার মায়ামিতে মেসিকে আগের তুলনায় অনেক কম দৌড়াতে দেখা যাচ্ছে। সমালোচকরা একসময় এটিকে দুর্বলতা মনে করতেন, কিন্তু এখন এটি তার দক্ষতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি খেলার ভেতরটা আগেভাগেই পড়ে ফেলেন এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে ম্যাচের রং বদলে দেন।

মেসির অর্জন শুধুমাত্র ট্রফি বা পরিসংখ্যানের গল্প নয়, বরং এটি একজন ফুটবলারের বারবার নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প। তার ক্যারিয়ার এক অনন্য বিবর্তনের নাম, যেখানে তিনি কিশোর উইঙ্গার থেকে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হয়ে উঠেছেন।

বিজ্ঞাপন