ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ছে, বিশেষ করে এপ্রিল মাসে স্থাপিত যুদ্ধবিরতির পর। সম্প্রতি ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে তেহরান, তাবরিজ, কারাজ এবং ইসফাহান অন্তর্ভুক্ত। এই হামলাগুলো যুদ্ধবিরতির শর্তগুলোকে চ্যালেঞ্জ করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ইরান এর আগে উত্তর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যা ইসরায়েলের লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানগুলোর প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইসরায়েল দাবি করছে যে, তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে, যা ইরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
সোমবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় পক্ষকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "ইসরায়েল এবং ইরানকে অবিলম্বে 'গুলি' করা বন্ধ করতে হবে।"
গত রবিবার ইসরায়েল বেইরুতের দক্ষিণ শহরতলীতে হামলা চালায়, যাতে অন্তত দুইজন নিহত এবং ২০ জন আহত হন। এই হামলার পর ইরান উত্তর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যা অধিকাংশই প্রতিহত হয়।
ইসরায়েল রাতের বেলায় কেন্দ্রীয় ও পশ্চিম ইরানে হামলা চালায়, এবং ইরানও দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার রাত থেকে ইরান মোট ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স আল-খারজ প্রদেশে নিরাপত্তা হুমকির সতর্কতা জারি করেছে, তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা IRIB দাবি করেছে যে, ইরান আল-খারজ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নতুন উত্তেজনা ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সঙ্গে আরও জড়িয়ে ফেলতে পারে। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে, এটি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ইসরায়েলের মধ্যে একটি বাস্তব বিরোধের ইঙ্গিত দিতে পারে।