শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে করের বৈষম্য নিয়ে সিপিডির উদ্বেগ

সিপিডি জানিয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির খাতে কর বৈষম্য বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে করের বৈষম্য নিয়ে সিপিডির উদ্বেগ

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) জানিয়েছে, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় চরম বৈষম্য ও তীব্র করচাপে রয়েছে। সংস্থার মতে, এই কর বৈষম্যের কারণে বিনিয়োগকারীরা পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির গবেষকরা এই তথ্য তুলে ধরেন। আগামী বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশ এবং ডলার সংকট মোকাবিলায় ব্যাটারি, সোলার প্যানেল, বৈদ্যুতিক যান (ইভি) সহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব পণ্যের করচাপ কমানোর জন্য সরকারকে ৭ দফা সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে রাজস্ব বৈষম্যের বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, ইউরোপের দেশগুলো দ্রুত পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো জীবাশ্ম জ্বালানির শুল্ক ও কর কাঠামোর ওপর থাকা সব ধরনের ভর্তুকি তুলে নেওয়া।

সিপিডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডিজেল, এলএনজি, ফার্নেস অয়েল ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির কারণে দেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৬৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

সিপিডির গবেষকরা জানান, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, প্যানেল ও ব্যাটারি আমদানিতে মোট করের বোঝা ২৮ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত। অপরদিকে, জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানির ক্ষেত্রে এই করের হার মাত্র ৯ থেকে ২৮ শতাংশ।

বক্তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন এবং দেশের টেকসই জ্বালানি সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য খাতকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন