বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ইরানের কঠোর অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির পথ এখনও অনিশ্চিত, কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে ইরান।

ইরানের কঠোর অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ করেনি ইরান। তবে দুই দেশের মধ্যে আস্থা সংকট, কড়া শর্ত এবং চলমান সংঘাত পরিস্থিতি বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন মাসের বেশি সময় পার হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, পরমাণু কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার—কোনো ইস্যুতেই ওয়াশিংটন ও তেহরান এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তুলছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন বাহিনী এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) একে অপরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করছে। এ পরিস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ সামরিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে যে তারা কোনোভাবেই 'আত্মসমর্পণ' করবে না।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মুজতাবা খামেনি নেতৃত্বের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আসেন। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তিনি এখনো প্রকাশ্যে খুব কমই উপস্থিত হন; কেবল লিখিত বার্তায় বক্তব্য দেন। তিনি লিখিত বার্তায় ইঙ্গিত দিয়েছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভবিষ্যৎ হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবমুক্ত।

এছাড়া, খামেনি জুনিয়রের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সমর্থক ও নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রতিদিন রাতের বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন এবং দেশকে দীর্ঘমেয়াদি 'প্রতিরোধ অর্থনীতি'র জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের আইআরজিসি ও সামরিক নেতৃত্বের প্রভাব বেড়েছে। আলোচনার বিষয়ে তারা প্রকাশ্যে খুব কমই কথা বলছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বড় কোনো ছাড় দেওয়ার বিরোধিতা করছে। আইআরজিসি প্রধান কমান্ডার আহমদ ভাহিদি বলেছেন, প্রয়োজনে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।

অন্যদিকে, সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলি জাফরি আলোচনার জন্য পাঁচটি কঠোর শর্ত তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি।

রাজনৈতিক বলয়ে ভিন্ন অবস্থান দেখা যাচ্ছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রভাবশালী মুখ সাইদ জলিলির নেতৃত্বাধীন কট্টরপন্থী গোষ্ঠী পশ্চিমাদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের ছাড়ের ঘোর বিরোধিতা করছে।

তবে সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ কিছু শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা বাস্তবসম্মত ও আলোচনাভিত্তিক সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ইরানের অবস্থান এখনো দ্বিধাবিভক্ত।

বিজ্ঞাপন