ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চণ্ডীপর্দী এলাকার বরকতের সাত মাস বয়সী ছেলে আয়ান গত ১ জুন হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে, ফরিদপুর সদর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকার রাফসানের দুই বছর বয়সী কন্যা আদিবা হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৯০ জন। সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে আসায় হামের সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে।
তিনি বলেন, "আমরা আশাবাদী, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।" অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি জানান, শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ডা. মাহমুদুল হাসান আরও জানান, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।