জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, "জাপান নয়, বরং চীনের দ্রুত সামরিক সম্প্রসারণ এবং স্বচ্ছতার অভাবই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।"
সিঙ্গাপুরে এক বক্তব্যে কোইজুমি উল্লেখ করেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রতিটি দেশ তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক করছে, এবং জাপানও এর ব্যতিক্রম নয়। তিনি বলেন, "এটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়ে করা হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "জাপানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র বা কৌশলগত বোমারু বিমান নেই। তবুও আমাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।" গত সপ্তাহে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং বিন জাপানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির অভিযোগ তুলেছিলেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
কোইজুমি চীনের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বিস্তারের বিষয়টিও উল্লেখ করেন, যা পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে বলে টোকিওর দাবি। তিনি জানান, জাপান গত এক দশকের বেশি সময় ধরে নিয়মিতভাবে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াচ্ছে, যার সর্বশেষ বাজেট ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনেরও বেশি।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে জাপান নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগ করছে। জাপান সরকার বলছে, এসব পদক্ষেপ কেবল আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে।
তবে, জাপানের সামরিক নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে দেশটির ভেতরেই বিতর্ক রয়েছে। অনেকে মনে করছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা জরুরি। অন্যদিকে কিছু সমালোচক আশঙ্কা করছেন, এতে জাপান যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে চীন ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্যের ফলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
কিন্তু, জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনায় জাপান সবসময় প্রস্তুত।