খুলনার দিঘলিয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে যুবদল নেতা মো. মুরাদ খাঁকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, থানা ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ ও তার ভাই সজিবের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের বকশি বাড়ি কবরস্থানের সামনে এই হামলা হয়। পরে মুরাদকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুরাদ খাঁ উপজেলা সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি ওই এলাকার মুনসুর খাঁ-এর ছেলে। অপরদিকে সাজ্জাদ থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক। নিহতের বোনের স্বামী মো. মিঠু জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মুরাদের সঙ্গে সাজ্জাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মুরাদ বকশিবাড়ির দিকে যাওয়ার সময় সাজ্জাদ ও তার ভাই সজিবসহ কয়েকজন তাকে ঘিরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে। খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা) আবির সিদ্দিকী শুভ্র জানান, তুচ্ছ ঘটনায় বাগবিতণ্ডার জের ধরে সাজ্জাদসহ ৪-৫ জন মুরাদের গতিরোধ করে এবং তার ওপর হামলা চালায়।
মুরাদ আত্মরক্ষার জন্য বকশিবাড়ি মসজিদ সংলগ্ন একটি দোকানে আশ্রয় নেন। দুর্বৃত্তরা ওই দোকানের তালা ভেঙে সেখানে পুনরায় হামলা করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুরাদের দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মুরাদকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, হত্যাকারীরা চিহ্নিত সন্ত্রাসী। মুরাদের দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
মন্টু বলেন, "এই ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। হত্যাকারী যেই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, প্রশাসনের কাছে জানাব, অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।"