রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
ফিচার

হ্যালোইন উৎসব: কুমড়োর ঐতিহ্য ও ইতিহাস

হ্যালোইন উৎসবের ইতিহাস, কুমড়োর গুরুত্ব এবং আমেরিকায় এর উদযাপন সম্পর্কে জানুন।

হ্যালোইন উৎসব: কুমড়োর ঐতিহ্য ও ইতিহাস

বিশ্বব্যাপী ৩১ অক্টোবর পালিত হয় হ্যালোইন ডে, যা 'ভূত দিবস' নামেও পরিচিত। হ্যালোইন শব্দটি এসেছে স্কটিশ 'অল হ্যালোস' ইভ থেকে, যার অর্থ 'পবিত্র'। এই দিনটি খ্রিষ্টানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হলেও, বিগত কয়েক বছরে এর জনপ্রিয়তা এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

হ্যালোইনের উৎপত্তি সেল্টিক জাতির সামহাইন উৎসব থেকে। সেল্টিকদের বিশ্বাস ছিল যে, এই দিনে মৃতদের আত্মা জীবিত মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়। অশুভ আত্মাদের তাড়াতে জীবিতরা ভূতের মতো পোশাক পরে এবং আগুন জ্বালিয়ে রাখে।

হ্যালোইন উৎসবের একটি প্রধান উপাদান হলো কুমড়ো। কুমড়ো দিয়ে বাড়িঘর সাজানো হয় এবং এটি উৎসবের অন্যতম প্রতীক। অনেকের মতে, কুমড়োর সঙ্গে আইরিশদের একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।

আইরিশ কিংবদন্তি অনুসারে, স্টিঞ্জি জ্যাক নামে এক মাতাল শয়তানকে মদ্যপানের আমন্ত্রণ জানায়। কিন্তু জ্যাকের মৃত্যু হলে, তার আত্মাকে একটি শালগমের ভেতরে ঢুকিয়ে পৃথিবীতে ফেরত পাঠানো হয়। কালের বিবর্তনে শালগমের পরিবর্তে কুমড়ো ব্যবহার করা হয়।

হ্যালোইন উদযাপনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের উদ্ভট পোশাক পরে। রাক্ষস, শয়তান, ভুত, ভ্যাম্পায়ার, দানব, মমি, কঙ্কাল, ওয়ারউলফ ও ডাইনির মতো পোশাক পরে লোকে ঘুরে বেড়ায়। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ভাগে আমেরিকায় জাতীয়ভাবে হ্যালোইন ডে পালিত হতে থাকে।

১৯২০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে আমেরিকায় হ্যালোইন ডে’র আনুষ্ঠানিকতা বাড়তে থাকে এবং পরে এটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে গণ্য হয়। এদিন সবাই ভূতের সাজে নিজেকে সাজায়।

হ্যালোইনকে ঘিরে অক্টোবর মাসব্যাপী নানা আয়োজন চলে, যেমন কুমড়োর লণ্ঠন তৈরি, বাড়িঘর সাজানো এবং চকলেট-পেস্ট্রি তৈরিতে ব্যস্ত থাকে আয়োজকরা। বর্তমানে আমেরিকায় হ্যালোইন ডে’র বাণিজ্যিক গুরুত্বও রয়েছে, যেখানে প্রতিবছর প্রায় ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়।

শিশুরা ভুতের সাজে 'ট্রিক অর ট্রিট' উদযাপন করে এবং প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে চকলেট দাবি করে। প্রতিবেশীরা ভয় পাওয়ার ভান করে এবং 'ট্রিট' বলে তাদের চকলেট দেন।

বিজ্ঞাপন