যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে হামলা বেড়েছে ৮ শতাংশ। এবছর মোট ৩৬৫টি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে নিহতের সংখ্যা তিন শতাধিক।
করোনা মহামারির সময় যখন গোটা বিশ্ব থমকে গিয়েছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলার ঘটনা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। মহামারির পর থেকে এই সহিংসতা যেন থামার নামই নিচ্ছে না। ২০২৫ সালে অন্তত ৪০০ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে নিহত হয় ১৪ হাজার মানুষ।
২০২৪ সালে ৫০৪টি হামলার ঘটনা ঘটে। ২০২১ সাল ছিল বন্দুক হামলার জন্য সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সময়, যখন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি-সহ ৪৪টি রাজ্যে ৬৮৯টি হামলা ঘটে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ১,৩০৩টি ছিল।
মহামারির মাঝেই ২০২০ সালের মে মাসের পর দ্বিগুণ হয়েছে সহিংসতার ঘটনা। সে বছর ৬১০টি বন্দুক হামলায় মারা যায় রেকর্ড সংখ্যক মানুষ, যা ১৯৯৪ সালের পর সর্বোচ্চ।
বিশ্বের বেসামরিক নাগরিকদের অস্ত্র ব্যবহারের প্রবণতার তালিকায় মার্কিনীরা শীর্ষে অবস্থান করছে। সুইস গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৯০ মিলিয়ন অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। প্রতি ১০০ জন বাসিন্দার বিপরীতে ১২০টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিল আইনে পরিণত হয়, যার মাধ্যমে ২১ বছরের কম বয়সী ক্রেতাদের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়। সন্দেহজনক ও পারিবারিক কলহে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে বন্দুক বিক্রি না করার বিধানও রয়েছে।
এরপরেও হামলা ও হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে, যা গণমাধ্যমে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া স্বজন ও পরিবারের আর্তনাদের মাধ্যমে উঠে আসছে।