গাজা থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে ২০২৪ সালে একটি সম্ভাব্য চুক্তি বিলম্বিত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কর্মকর্তার অভিযোগ অনুযায়ী, নেতানিয়াহু নতুন শর্ত জুড়ে চুক্তিটি ছয় মাসের জন্য আটকে দেন, যার ফলে কয়েকজন ইসরায়েলি জিম্মি প্রাণ হারান।
ফিল গর্ডন, যিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই অভিযোগ করেন। গর্ডনের বক্তব্য নেতানিয়াহুর সাবেক সামরিক সচিব আভি গিলের অভিযোগের সঙ্গে মিল রয়েছে। গিল দাবি করেছেন, নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ঝুঁকি নিয়ে গাজা থেকে জিম্মিদের মুক্তির সুযোগ কাজে লাগাননি।
গিল সম্প্রতি ইসরায়েলি টেলিভিশন 'চ্যানেল ১২'-এ সাক্ষাৎকারে বলেন, হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে নেতানিয়াহুর কাছে একাধিক সুযোগ ছিল, কিন্তু তিনি সেগুলো কাজে লাগাননি। গিলের অভিযোগ, ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগেও নেতানিয়াহুকে সতর্ক করা হয়েছিল।
গর্ডন জানান, ২০২৪ সালের ৪ জুলাই বাইডেন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলে জিম্মি মুক্তির চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। হামাস চুক্তির মূল কাঠামো মেনে নিতে রাজি ছিল, কিন্তু নেতানিয়াহু নতুন শর্ত যুক্ত করেন।
নেতানিয়াহুর যুক্ত করা শর্তগুলোর মধ্যে গাজার সঙ্গে মিশরের সীমান্তে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান বজায় রাখার দাবি ছিল। গর্ডনের মতে, এসব শর্ত যুক্ত করার ফলে চুক্তি কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং প্রায় ৯ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হন।
গর্ডন আরও জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সম্পন্ন হওয়া চুক্তিতে নেতানিয়াহুর যুক্ত করা শর্তগুলো বাদ দেওয়া হয়, যা পূর্ববর্তী আলোচনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এই অভিযোগগুলো গাজা যুদ্ধের সময় জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েলি সরকারের সিদ্ধান্তের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।