গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে, যা গোটা উপত্যকাকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ায় সংঘাতটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।
গাজার স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, 'ঘরে-বাইরে সবখানেই আমরা আতঙ্কে থাকি। সারাক্ষণ দুশ্চিন্তা হয়, এক্ষুনি হয়তো গোলা এসে পড়বে। আমাদের আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। সত্যি বলতে, আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই।'
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইসরায়েলের হামলায় প্রশাসনিক অবকাঠামো, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। খাদ্য সংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
জাতিসংঘের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, 'গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সামরিক হামলার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।'
বিশ্লেষকরা জানান, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং ইসরায়েলের কঠোর নিরাপত্তা অবস্থান গাজার পুনর্গঠনকে বাধাগ্রস্ত করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার প্রতিশ্রুতি থাকলেও লাখ লাখ মানুষের পুনর্বাসনের চ্যালেঞ্জ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
২০২৩ সালে হামাসের হামলায় প্রায় ১২০০ বেসামরিক ইসরায়েলি প্রাণ হারিয়েছে, আর গত তিন বছরে ইসরায়েলি অভিযানে অন্তত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতে ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে এবং কয়েক লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।