ফুটবলের ব্যক্তিগত অর্জনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হচ্ছে ব্যালন ডি'অর, যা একজন ফুটবলারকে রাতারাতি ইতিহাসের পাতায় স্থান দেয়। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি'অরের সেরা ৩০ জনের তালিকা গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ঘোষিত হবে এ বছরের গোল্ডেন বল বিজয়ীর নাম।
ব্যালন ডি'অরের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ফুটবলপ্রেমীদের অনেক প্রশ্ন থাকে। প্রথমে, ১৯৫৬ সালে ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর মাধ্যমে বর্ষসেরা ফুটবলারকে পুরস্কৃত করার ধারণা উদ্ভাবিত হয়। শুরুতে এটি ইউরোপীয় ফুটবলারদের জন্য ছিল, তবে ১৯৯৫ সালে এটি বিশ্বের সব দেশের ফুটবলারদের জন্য উন্মুক্ত হয়। ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ফিফা এবং ফ্রান্স ফুটবল একত্রে ‘ফিফা ব্যালন ডি’অর’ পুরস্কার প্রদান করে।
বর্তমান ব্যালন ডি’অরের জন্য বিবেচ্য সময়সীমা হচ্ছে ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে একজন ফুটবলার কীভাবে পারফর্ম করেছেন— গোল, অ্যাসিস্ট, ম্যাচে প্রভাব, এবং দলের সাফল্য— সবকিছুই বিবেচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক ফুটবল, যেমন বিশ্বকাপ এবং আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের পারফরম্যান্সও এখানে অন্তর্ভুক্ত।
৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেন ফ্রান্স ফুটবল এবং লে'কিপের সম্পাদকীয় দলের সদস্যরা। ভোটাভুটির জন্য নির্বাচিত সাংবাদিকরা পুরুষ ব্যালন ডি’অরের জন্য ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের ১ জন করে অভিজ্ঞ ফুটবল সাংবাদিক। নারী ব্যালন ডি’অরের জন্য এই সংখ্যা শীর্ষ ৫০ দেশের একজন করে সাংবাদিক।
ভোটিং প্রক্রিয়ায়, সাংবাদিকরা ৩০ জনের তালিকা থেকে নিজেদের পছন্দের সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নির্বাচন করেন এবং তাদের ক্রমানুসারে সাজান। প্রথম পছন্দের জন্য ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় পছন্দের জন্য ১২ পয়েন্ট, এবং তৃতীয় পছন্দের জন্য ১০ পয়েন্ট দেওয়া হয়।
যদি দুই খেলোয়াড়ের পয়েন্ট সমান হয়, তবে দেখা হয় সাংবাদিকদের প্রথম পছন্দের ভোট। সাংবাদিকদের ভোটিংয়ের মানদণ্ড তিনটি: ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলের পারফরম্যান্স, এবং খেলোয়াড়সুলভ আচরণ।
ব্যালন ডি’অর ঘোষণার অনুষ্ঠানে আরও কিছু মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রদান করা হয়, যেমন ২১ বছরের কম বয়সী সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়।