ইসরায়েল পশ্চিম তীরের দখলকৃত অঞ্চলে ১,২৩৪টি ইসরায়েলি বাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র খুলেছে, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে দুই ভাগে বিভক্ত করবে।
এই প্রকল্পটি পশ্চিম তীরের E1 এলাকা তৈরি করার অংশ, যা দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও মায়ালে আদুমিমের মধ্যে একটি অব্যাহত ইসরায়েলি বসতি ‘করিডোর’ তৈরি করবে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে চলাচল আরও বিঘ্নিত হবে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
প্যালেস্টাইনী মানবাধিকার কর্মী উবাই আল-আবৌদি আল জাজিরাকে বলেন, এই প্রকল্পটি “দুই রাষ্ট্রের সমাধানের শেষ পেরেক” ঠুকবে এবং একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নির্মূল করবে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিস পূর্বে E1 প্রকল্পকে “অবৈধ সংযুক্তির জন্য একটি গুরুতর পদক্ষেপ” হিসেবে বর্ণনা করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, সেখানে বসতি নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে এবং জাতিসংঘের প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে যায়।
এই পদক্ষেপটি পশ্চিমা সরকারের পক্ষ থেকে নিন্দার জন্ম দিয়েছে, যারা ইসরায়েলকে দরপত্র প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে এবং কোম্পানিগুলোকে দরপত্রে অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে।
E1 প্রকল্পের পরিকল্পনা ১৯৯১ সালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইজাক শামিরের অধীনে শুরু হয় এবং ১৯৯৪ সালে ইজাক রবিনের সময় এগিয়ে নেওয়া হয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপের কারণে আবাসিক নির্মাণ বারবার স্থগিত হয়েছে।
ইসরায়েল ২০০৪ সালে E1-এর জন্য প্রাথমিক অবকাঠামোগত কাজ শুরু করে এবং পরে সেখানে রাস্তা ও একটি পুলিশ সদর দপ্তর নির্মাণ করে, কিন্তু হাজার হাজার বাড়ির পরিকল্পনা এখনও স্থগিত রয়েছে।
বিশ্লেষকরা জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের জন্য বসতি সম্প্রসারণের একটি সুবিধাজনক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
E1 প্রকল্পটি পশ্চিম তীরের দখলকৃত অঞ্চলে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণের বিস্তারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা নেতানিয়াহুর সরকার দ্বারা দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
সাম্প্রতিক দরপত্র ১৯ অক্টোবর বন্ধ হবে, যা ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচনের আট দিন আগে অনুষ্ঠিত হবে।