দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিওলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক মহড়া হ্রাসের নির্দেশের ফলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের এই নির্দেশের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা গ্যারান্টির উপর প্রশ্ন উঠেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়ে সিউলের অবস্থান পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে।
সোমবার, ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টের মাধ্যমে পেন্টাগনকে "মহড়াগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস" করতে নির্দেশ দেন, যা উত্তর কোরিয়ার প্রতি "অপযুক্ত এবং শত্রুতাপূর্ণ" সংকেত পাঠানোর অভিযোগ করেন।
এই ঘোষণাটি দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল, কারণ এটি দেশের স্বাধীনতার একটি ছুটির দিনে প্রকাশিত হয়। পেন্টাগন জানিয়েছে যে তারা প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য "সক্রিয়ভাবে কাজ করছে"।
দুই দেশের সামরিক বাহিনী একত্রে ১১ দিনের মহড়া পাঁচ দিনে হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবং কিছু মাঠ প্রশিক্ষণ মহড়ার পরিধি কমানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতি দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের মধ্যে উদ্বেগ এবং ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে, যা ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর থেকে নির্ভরশীল নিরাপত্তা গ্যারান্টির উপর প্রশ্ন তুলেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়াং সোমবার সরকারের মন্ত্রিসভায় বলেছিলেন যে মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়ার জোট অপরিহার্য, তবে দেশের "স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা" বাড়ানোর আহ্বান জানান।
লির মন্তব্যের পর, বিদেশমন্ত্রী চো হিউন সংসদে জানান যে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাদের কাছে পূর্ববর্তী কোনো তথ্য ছিল না।
সোশ্যাল মিডিয়ায়, অনেক ব্যবহারকারী ট্রাম্পের প্রতি তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "আমরা ট্রাম্পের প্রতি সবকিছু বিশ্বাস করতে পারি না।"
এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা সরকারের মার্কিন সমর্থন দেওয়ার পক্ষে, ৩৬ শতাংশ নিরপেক্ষ থাকার পক্ষে এবং ১৬ শতাংশ মার্কিন বিরোধিতা করার পক্ষে মত দিয়েছেন।