ইরানের এক প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা সম্প্রতি এমন একটি মন্তব্য করেছেন যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পরিস্থিতি পাল্টে দিতে পারে। আহভাজ শহরের জুমার নামাজের খতিব মোহাম্মদ নবি মুসাভিফার্দ শুক্রবার এক খুতবায় সতর্কবার্তা দেন যে, পরিস্থিতি আরও এক ধাপ এগোলে ইরান পরমাণু অস্ত্রের দিকে যেতে পারে।
মুসাভিফার্দ বলেন, "যদি আমাদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে আমরা বাধ্য হয়ে পরমাণু অস্ত্রের দিকে হাত বাড়াব।" এই বক্তব্যের পর পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশ্ন উঠেছে যে, ইরান কি সত্যিই তার পরমাণুনীতিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা জানান, এটি এখনও ইরান সরকারের পক্ষ থেকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়, তবে রাজনৈতিক গুরুত্ব কম নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি দেশটির অভ্যন্তরীণ এখতিয়ার।
মুসাভিফার্দ যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই এক জটিল পরিস্থিতিতে রয়েছে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবারও একটি কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, ইরানের নীতিগত শর্তগুলো পূরণ না হলে পরিস্থিতি "আক্রমণাত্মক যুদ্ধের পর্যায়ে" মোড় নিতে পারে।
এখন ইরানের তরফ থেকে দুটি স্পষ্ট কৌশল দেখা যাচ্ছে—একদিকে হরমুজ প্রণালির সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ রক্ষা এবং অন্যদিকে চাপ বাড়লে সামরিক প্রতিরোধ। পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কিত নতুন সতর্কবার্তা পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।