ঢাকা-দিল্লির সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাকে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি।
ভারতীয় বিশ্লেষক ড. শ্রীরাধা দত্তের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ এবং ‘র’-প্রধানের ঢাকা সফর দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমঝোতার ইঙ্গিত বহন করে।
দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, ভারতের দাবি, অনুষ্ঠানের আয়োজনে তাদের সরকারের কোনো ভূমিকা নেই।
এদিকে, ঢাকায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনের সফর এবং ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘ভারতের যেকোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে হাসিনরা যেভাবে কাজ করেছে, সেভাবে আর করতে পারবে না।’
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা র’-প্রধানের সফর এবং ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন।
ড. জাহেদ রহমান জানান, ‘ভারতের হাইকমিশনার ও র-এর প্রধানের ভ্রমণ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা। ভারতের মনোভাব পরিবর্তন না হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।’
ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশ্লেষক ড. শ্রী রাধা দত্ত বলেন, ‘বিএনপি সরকার আসার পর দুই দেশের মধ্যে কিছু না কিছু যোগাযোগ চলছে। সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য নিরাপত্তা, সীমান্ত ও বাণিজ্য বিষয়গুলোতে সমঝোতার পথ খোঁজা জরুরি।’
তিনি যোগ করেন, ‘সম্পর্কের বরফ গলাতে দুই পক্ষের সাম্প্রতিক তৎপরতা কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।’