বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে সেবা মাশুল বৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে, যা গ্রাহকদের খরচ বৃদ্ধির শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। আধুনিক আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থায় ব্যাংকের ভূমিকা অপরিহার্য। ব্যাংকের সেবা গ্রহণ করতে গ্রাহকদের নানা কারণে ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়।
ব্যাংকগুলো বর্তমানে বিভিন্ন সেবার জন্য নির্দিষ্ট ফি বা মাসুল ধার্য করে থাকে, কিছু সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সঞ্চয়ী হিসাব থেকে মাসে তিনবারের বেশি টাকা উত্তোলন করলে গ্রাহকদের মাসুল দিতে হবে। এই পরিবর্তন ব্যবসায়ীদের জন্য অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।
বর্তমানে বিনা মাসুলে ঋণপত্র খোলার সুযোগ থাকলেও নতুন প্রস্তাবে গ্রাহকদের ২ হাজার টাকা দিতে হবে। এলসি সংশোধন ফি দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যাংকাররা জানান, সেবার পরিসর এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় মাসুল সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, "১০ বছর আগে যে খরচ ছিল, তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আমাদের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কিছুটা খরচ তুলতে হবে। এজন্য আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে কিছু চার্জের বিষয়ে বিবেচনা করার অনুরোধ করেছি।"
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, ব্যাংকিং খাত ইতিমধ্যেই সংকটে রয়েছে এবং মাসুল বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকদের ব্যাংকের প্রতি অনীহা বাড়তে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফা কে মুজেরি বলেন, "ব্যাংক খাত সংকটের মধ্যে রয়েছে। মাসুল বৃদ্ধির প্রচেষ্টা ব্যাংক খাতের প্রতি বিমুখতা বাড়াতে পারে।"
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ক্যাশলেস অর্থনীতি গঠনে আগ্রহী। তবে ব্যাংকগুলো যদি অতিরিক্ত ফি বা চার্জ আরোপ করে, তাহলে সাধারণ মানুষের ব্যাংকের প্রতি অনিহা সৃষ্টি হবে।
এদিকে, সুদ বহির্ভূত আয়ের পরিবর্তে ব্যাংকগুলোর সুদ আয়ের দিকে বেশি জোর দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংক।