খাগড়াছড়ি জেলায় টানা ও অতি ভারী বর্ষণের ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী, বাঘাইহাট বাজার ও মাচালং বাজার সংলগ্ন এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়ায় সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আটকা পড়েছে ৫ শতাধিক পর্যটক। সাজেক কটেজ রিসোর্ট মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক জিয়াউল হক জানান, ‘সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ ডুবে গেছে, ফলে রুইলুই ও কংলাক পর্যটন কেন্দ্রে প্রায় ৫ শতাধিক পর্যটক আটকা রয়েছে। তাদের রুম ভাড়া ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে।’
বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা আকতার বলেন, ‘পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের ফলে বাঘাইহাট বাজার ও মাচালং বাজারের সড়ক ডুবে গেছে। সড়কের পানি নেমে গেলে আটকে পড়া পর্যটকদের নিয়ে আসা হবে।’ খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-লংগদু সড়কের মেরুং অংশ এবং দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালি অংশে পানি উঠে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেরুং ইউনিয়নের হেডকোয়ার্টার ব্রিজ এবং সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বড় মেরুং, বামে আটারকছড়া ও তেঁতুল এলাকাতেও সড়ক ডুবে রয়েছে। এতে গতকাল বিকেল থেকে দীঘিনালার সঙ্গে লংগদুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
এদিকে, জেলার অন্যান্য প্রধান নদী যেমন মাইনী ও চেঙ্গীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছড়া ও খালের পানি উপচে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সড়ক ও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ জানান, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা উপজেলায় দূর্যোগ টিম গঠন করেছি। মেরুং রাজার সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন।’
জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘জেলায় ১৩৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে।’
এদিকে, জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে খাগড়াছড়ি ও মহালছড়ি সড়কের সিন্দুকছড়ি এবং গুইমারা সড়কে পাহাড় ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। জেলা প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে যেতে বারবার অনুরোধ করছে।