বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার থমাস মুনিয়ের সম্প্রতি ফ্রান্সের ফুটবল নিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, ফ্রান্সের বর্তমান ফুটবলারদের গভীরতা এতটাই বেশি যে, তারা চাইলে তিনটি আলাদা দল গঠন করতে পারে, যার প্রতিটি দলই বিশ্বকাপ জেতার ক্ষমতা রাখে।
ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৩০ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে তারা আন্তর্জাতিক ফুটবলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। তবে ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন প্রধান জর্জেস বোলন একটি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বুঝতে পারেন, দেশীয় ফুটবলার তৈরি করতে হবে। এই ভাবনার ভিত্তিতে 'সেন্টার্স ডি ফরমেশন' বা ফুটবল ট্রেনিং একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
১৯৭৪ সালে প্রথম একাডেমি খোলার পর ফ্রান্সের বিখ্যাত 'ক্লেয়ারফন্টেইন' প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে দেশজুড়ে প্রতিভাবান শিশুদের বাছাই করা হতে থাকে। যদিও শুরুতে এই প্রকল্পের ফলাফল মিশ্র ছিল, ১৯৮৪ সালে মিশেল প্লাতিনির নেতৃত্বে ফ্রান্স ইউরো এবং অলিম্পিক জিতে।
১৯৯৮ সালে ফ্রান্স নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে নতুন রূপ দেখায়। তখনকার ফরাসি দলটিকে বলা হতো ‘ব্ল্যাক-ব্লাঙ্ক-বুর’। তৎকালীন অধিনায়ক বার্নার্ড লামা বলেন, “আমাদের দলের বিশেষত্ব ছিল আমাদের একাডেমির কঠোর শৃঙ্খলা এবং জেতার তীব্র ক্ষুধা।”
ফ্রান্সের ফুটবলের এই সাফল্যের পেছনে অভিবাসনের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। আফ্রিকা, ফ্রেঞ্চ গায়ানা এবং মার্তিনিক থেকে আসা মানুষেরা ফরাসি সংস্কৃতিতে নতুন রূপ যোগ করেছে। আজকের তারকারা যেমন উসমান দেম্বেলে এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে, তারা ফ্রান্সের শহরতলিতে বড় হয়েছেন।
ফুটবল বিশ্লেষকরা বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ফুটবল প্রতিভা তৈরি হয় সাও পাওলো এবং প্যারিসে। প্যারিসের অপেশাদার একাডেমিগুলোতে শিশুরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফুটবল খেলে, যা তাদের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হয়।
ফ্রান্সের ফুটবল একাডেমিগুলোর ট্রেনিং পদ্ধতি অত্যন্ত উন্নত। এখানে খেলোয়াড়দের শুধু ফুটবল শেখানো হয় না, বরং তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ক্লেয়ারফন্টেইনের ট্রেনিংয়ে রাস্তার ফুটবলের স্বাধীনতা এবং ইউরোপীয় ট্যাকটিকসের এক দারুণ মিশ্রণ ঘটানো হয়।