দেশের টেলিকম খাত দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ করের কারণে সমস্যার সম্মুখীন। তবে আগামী অর্থবছরের বাজেটে এই খাতের কর কাঠামোতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। বাজেটে সিম ট্যাক্সের ওপর আরোপিত শুল্ক সহনীয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা ৩শ' টাকার পরিবর্তে দুইশ টাকায় নামানো হতে পারে।
এছাড়া, সিম রিপ্লেসমেন্টের জন্য ৩শ' টাকা শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে এবং আইওটি সিমগুলোর জন্য শুল্কমুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, এখনও ৫০ শতাংশ লোককে ইন্টারনেটের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি, তাই সিম ট্যাক্স কমানো প্রয়োজন।
সরকার আগামী ৫ বছরে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা করছে এবং ১০ বছরের মধ্যে শীর্ষ দশ ডিজিটাল ইকোনমির দেশে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য রয়েছে। মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার জানান, শুল্ক কাঠামোর সংস্কার ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, দেড় দশকে ৬০ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হলেও খাতের উন্নতি হয়নি। তিনি বলেন, "এত টাকা খরচের পর আমরা কিছু দেখতে পাচ্ছি না।" বর্তমানে গ্রাহকের প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জের ৩৯ টাকা সরকারি কোষাগারে চলে যায়, যার মধ্যে ২০ শতাংশ সম্পুরক শুল্ক এবং কার্যকরী ভ্যাট ১৮ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত। মোবাইল অপারেটররা পদ্মা সেতুর জন্য আরোপিত ১ শতাংশ সারচার্জ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।