যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের স্বাস্থ্যনীতি ও বিজ্ঞানবিরোধী অবস্থানের বিরুদ্ধে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি নতুন প্রজন্ম নির্বাচনী মাঠে নামছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে কংগ্রেসের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বেশ কয়েকজন চিকিৎসক।
চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি, টিকানীতিতে পরিবর্তন এবং চিকিৎসাবিষয়ক সিদ্ধান্তে বৈজ্ঞানিক মতামত উপেক্ষার অভিযোগকে নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে আনছেন। আমেরিকান কলেজ অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২৫ জন চিকিৎসক কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হতে পারেন।
বর্তমানে কংগ্রেসে চিকিৎসকদের বড় অংশ রিপাবলিকান দলের সদস্য হলেও এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রার্থী হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে চিকিৎসক আবদুল এল-সাইয়েদ এবং সাউথ ক্যারোলাইনায় শিশু বিশেষজ্ঞ অ্যানি অ্যান্ড্রুজ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ থেকেই চিকিৎসকদের রাজনীতিতে আসার আগ্রহ বাড়ছে। তারা স্বাস্থ্যসেবার বাড়তি খরচ এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বীকৃত তথ্য উপেক্ষা করার বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন।
ভ্যাকসিন নীতির পক্ষে কাজ করা সংগঠন ভ্যাক্স প্যাকের প্রতিষ্ঠাতা এরিক ফেইগল-ডিং বলেন, “বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার ঠেকাতে শুধু গবেষণাগারে থাকলে চলবে না; জনপরিসরেও তাদের সক্রিয় হতে হবে।”
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ৮ অক্টোবরের এক জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন ভোটারদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু। জরিপে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের ৮২ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বস্টন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথের নীতিবিশেষজ্ঞ ম্যাট মোত্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি দলীয় বিভাজনের রূপ নিয়েছে। ১৯৯৪ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্বাস্থ্যসেবা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল, তখন রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের স্বাস্থ্য সংস্কার উদ্যোগকে সমাজতান্ত্রিক নীতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল।
এবারের নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্যনীতির বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। ট্রাম্প ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় স্বাস্থ্যব্যবস্থার অসন্তুষ্ট ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন।