সরকার ঘোষণা করেছে যে, আবাসিক গ্যাস সংযোগে আর প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে পুরোনো পাইপলাইন প্রতিস্থাপন কেবল শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের মোকাবিলায় কিছু অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশে বর্তমানে ৩০ লাখের বেশি আবাসিক গ্যাস সংযোগ রয়েছে, যার মধ্যে ৬ লাখে প্রি-পেইড মিটার রয়েছে।
২০২৪ সালে এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে তিতাস ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাসের ১৮ লাখ ৭৮ হাজার আবাসিক গ্রাহকের জন্য স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা। কিন্তু জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, স্মার্ট মিটার স্থাপন প্রকল্প বিতরণ কোম্পানির জন্য লাভজনক নয়।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, "যেখানে দেশে গ্যাসের চাপ নেই এবং নতুন কূপ খনন হয়নি, সেখানে স্মার্ট মিটার বসানো অর্থহীন।"
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের প্রতিস্থাপনের জন্য ৮ হাজার ২৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে, শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকার বাইরে কোনো প্রকল্পে আগ্রহ নেই জ্বালানি বিভাগের।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, "আমাদের গৃহস্থালী থেকে গ্যাস সরিয়ে নিতে হবে। শিল্পে গ্যাস চুরি বন্ধ করতে হবে।" বর্তমানে দৈনিক ৪০০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে, যার ১০ শতাংশ রান্নার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।