যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। শনিবার হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজে ড্রোন হামলার পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানের অব্যাহত আগ্রাসনের জবাবে তারা বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানায়, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির পরিপন্থী এবং এর ফলে শান্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা ড্রোন ব্যবহার করে পানামা পতাকাবাহী ট্যাংকার এমটি কিকুতে হামলা চালিয়ে সেই সুযোগ নষ্ট করেছে।
জবাবে, সেন্টকম ইরানের সামরিক সরঞ্জাম, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা এবং ড্রোন সংরক্ষণাগারে হামলার কথা জানিয়েছে। আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র অপরাধী জাহাজের বিরুদ্ধে আইআরজিসি নৌবাহিনীর অভিযানের অজুহাতে ইরানের উপকূলীয় পাঁচটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
তাদের দাবি, চলতি মাসের শুরুতে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও নৌপথ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ইরানের ওপর রয়েছে। এখন থেকে নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে আগের তুলনায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, যেকোনো সম্ভাব্য শত্রুর আগ্রাসনের জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর ও বিধ্বংসী। এর আগে বৃহস্পতিবার একটি কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার জবাবে শুক্রবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার অবস্থানে হামলার কথা জানিয়েছিল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ পর ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি বলেন, তেহরান সম্ভবত কখনোই শিক্ষা নেবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কুয়েত ও বাহরাইন জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। সেন্টকম জানায়, ইরানি বাহিনীর অযৌক্তিক আগ্রাসন স্পষ্টভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে, তেহরানের দাবি, মালবাহী জাহাজটি উপসাগরীয় জলপথ অতিক্রমের জন্য অনুমোদনহীন একটি রুট ব্যবহার করায় সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের আওতায় শত্রুতা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছিল। ওই সমঝোতায় বলা হয়েছিল, ৬০ দিনের জন্য কোনো ধরনের অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।