ম্যাচের ৭৬ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি এল, যখন সাইডলাইনে বদলি বোর্ডে নেইমারের জার্সি নাম্বার ভেসে উঠল। পুরো স্টেডিয়ামে ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে। মাতেউস কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন নেইমার, যা প্রায় তিন বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায়।
নেইমারের ফেরার ম্যাচে ব্রাজিল স্কটল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত করে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোলে এবং কুনিয়ার এক গোলের মাধ্যমে সেলেসাওরা এই বড় জয় পায়। এই জয়ের ফলে ব্রাজিল তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে এবং নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে।
নেইমার ব্রাজিলের জার্সিতে শেষবার মাঠে নেমেছিলেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে, যেখানে তিনি মেনিসকাস চোটে আক্রান্ত হন। ওই চোটের কারণে এক বছরের বেশি সময় জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন তিনি। ক্লাবের জার্সিতে ফিরে আসলেও জাতীয় দলে ফিরতে পারছিলেন না নেইমার।
নেইমারকে নিয়ে নানা আলোচনা চললেও কোচ আনচেলত্তি তাঁকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তবে ফের চোটে পড়ায় তাঁর ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়। তবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আনচেলত্তি নিশ্চিত করেন, নেইমার পুরোপুরি ফিট এবং খেলতে প্রস্তুত।
ম্যাচের ৭৬ মিনিটে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে হার্ড রক স্টেডিয়ামে উপস্থিত ব্রাজিল সমর্থকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে পুরো স্টেডিয়াম মুখর হয়ে ওঠে। ম্যাচ শেষে নেইমারের ফেরা প্রসঙ্গে আনচেলত্তি বলেন, 'ও (নেইমার) এই সুযোগ পাওয়ার যোগ্য ছিল। সে দারুণভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে এবং বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।'
নেইমার মাঠে নামার আগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দর্শকদের মুগ্ধ করেন। স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে প্রথম গোলটি করেন তিনি এবং বিরতির ঠিক আগে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটিও করেন। ম্যাচ শেষে ভিনিসিয়ুস বলেন, 'আমার মনে হয় সবাই ভালো খেলেছে। আমরা দল হিসেবে খেলেছি, যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।'