ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পারমাণবিক আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। এ অবস্থায়, ইরান ২৪ বিলিয়ন ডলার জব্দকৃত সম্পদ ফেরতের দাবি তুলেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, এই দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি 'বিশ্বাসের পরীক্ষা'। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এখন 'সম্পূর্ণ অচলাবস্থায়' রয়েছে।
রেজাই বলেন, "ট্রাম্পকে এই অচলাবস্থা ভাঙতে হবে। বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে।" তিনি আরও জানান, আলোচনা মূলত যুক্তরাষ্ট্র কত দ্রুত ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেবে, তার ওপর নির্ভর করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুক্তি সই হলে প্রথমে ১২ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তীতে বাকি অর্থ ছাড়ের কথা রয়েছে। রেজাই বলেন, "এটি এমন একটি পরীক্ষা, যা আমেরিকাকে পাস করতে হবে। এটা আমাদের নিজেদের টাকা, আমেরিকার নয়।"
রেজাই সতর্ক করে বলেন, যদি উত্তেজনা আবারও বাড়ে, তাহলে ইরান পারস্য উপসাগরের বাইরে যুদ্ধ সম্প্রসারণ করবে। তবে তিনি জানান, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সম্ভাবনা কম।
তিনি বলেন, "আমরা অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যুদ্ধকে নতুন মাত্রা দেবো।" যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিষয়েও তিনি সতর্কবার্তা দেন।
রেজাই দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান বিজয়ী হয়েছে এবং এটিকে তিনি 'ইরানের ইতিহাসে প্রথম বিজয়' হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী নয় এবং প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আলোচনাকে অচল করে দেওয়ার অভিযোগ করেন।
পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে রেজাই বলেন, ট্রাম্পের 'অস্পষ্ট কৌশল' এবং ২০১৫ সালের চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার কারণে নতুন কোনো সমঝোতা করা কঠিন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরান ও ওমানের সার্বভৌমত্বের অধীনে রয়েছে এবং সেখানে জাহাজ চলাচলের জন্য যে অর্থ নেওয়া হয়, তা হরমুজের 'রক্ষণাবেক্ষণ ফি' হিসেবে উল্লেখ করেন।