কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার (৩ জুন) ড্রোন হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। হামলার পর বিমানবন্দর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হামলাটিকে ইরানি আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অপরদিকে, কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হামলায় কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ। তারা জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্য করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক স্থাপনায় আত্মরক্ষামূলক অভিযান চালিয়েছে এবং তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সেন্টকমের দাবি, ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, তবে সেগুলো আকাশেই ধ্বংস হয়ে গেছে।
কুয়েত সরকার দুই ইরানি কূটনীতিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং তেহরানের চার্জ দ্য’অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। নিহত ব্যক্তি একজন ভারতীয় নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং কূটনৈতিক সমঝোতার কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই সহিংসতা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।