সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সম্প্রতি ইরানে ডজনখানেক বিমান হামলা চালিয়েছে, যা মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় করা হয়েছে। এই তথ্যটি প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইউএই এই হামলা চালিয়েছে, যার ফলে দেশটির তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ক্ষতি হয়েছে। ইরান ইউএই'র দিকে ২ হাজার ৮শ'টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।
হামলাগুলোতে হরমুজ প্রণালির কেশম ও আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু ছিল। ইউএই ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে আসালুইয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সেও হামলা চালিয়েছে। এই হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে এ ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, আসালুইয়েহ গ্যাস কমপ্লেক্সে হামলার ঘটনায় ইসরায়েল একাই জড়িত ছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ চলাকালে ইউএই ও ইসরায়েলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইসরায়েল ইউএই'তে 'আয়রন ডোম' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সেনা মোতায়েন করেছে। গোপনে আমিরাত সফর করেছেন ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা, যার মধ্যে মোসাদ প্রধান এবং আইডিএফ চিফ অব স্টাফ অন্তর্ভুক্ত।
এদিকে, ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপে অংশ না নেয়ায় সৌদি আরব ও কাতারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে চাইলেও তারা এতে সাড়া দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য বৃদ্ধি করেছে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ইউএইর ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।